জামিয়া তালীমুল কুরআন সিলেট। Jamia Talimul Quran Sylhet
সিলেটের অন্যতম বিশেষায়িত কওমি মাদ্রাসা হলো জামিয়া তালীমুল কুরআন সিলেট, যা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত (ইলমুল কিরাআত)-এর আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে শায়খুল কুররা মাওলানা আলী আকবর সিদ্দীক রাহ.-এর হাতে এই প্রতিষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল— অশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত থেকে পরিত্রাণ ও সমাজের সর্বস্তরে কুরআনী সংস্কৃতি এবং সহীহ কুরআনের শিক্ষার আলো বিকিরণ করা।
ঐতিহাসিক প্রেরণা ও সূচনা
এই জামিয়ার বীজ মূলত রোপিত হয়েছিল শাইখে ভানুগাছী রহ.-এর মাধ্যমে, যিনি মুসলিম উম্মাহর অশুদ্ধ তিলাওয়াত দেখে অস্থিরতা অনুভব করতেন। ১৯৮২ সালের ১০ মার্চ তাঁর উস্তাদ আল্লামা নূর উদ্দীন আহমদ গহরপুরী রহ.-এর ইজাযত ও দোয়ার মাধ্যমে আঞ্জুমানে তা’লীমুল কুরআন বাংলাদেশ-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়, যার ফলস্বরূপ এই জামিয়ার প্রতিষ্ঠা।
শিক্ষা কার্যক্রম ও বিশেষত্ব
জামিয়া তালীমুল কুরআন-এ মকতব পঞ্চম শ্রেণি, নূরানী বিভাগ, হিফজ বিভাগ ও ইলমুল ক্বিরাআত বিভাগ দিয়ে পড়াশোনা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এখানে কাফিয়া জামাআত পর্যন্ত শিক্ষাকার্যক্রম চলছে। প্রতিষ্ঠানটি একাধিক বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, আযাদ দীনি এদারায়ে তা’লীম বাংলাদেশ এবং তানযিমুল মাদারিস শিক্ষাবোর্ড সিলেট, এমনকি পিএসসি জুনিয়র সার্টিফিকেট (সরকারি) পরীক্ষাও নেওয়া হয়।
শিক্ষার ক্ষেত্রে এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
-
- যুগোপযোগী সিলেবাস: আঞ্জুমান, ন্যাশনাল কারিকুলাম ও কওমি মাদরাসা সিলেবাসের সমন্বয়ে পাঠদান।
- আধুনিক শিক্ষা: আরবি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সমাজ ও অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান।
- বিশেষ সুবিধা: আবাসিক/অনাবাসিক ব্যবস্থা, নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা, ফ্রি-কোচিং এবং ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ।
বর্তমানে মাওলানা ক্বারী ইমদাদুল হক মুহতামিম (পরিচালক) এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী শিক্ষাসচিবের দায়িত্বে আছেন। এখানে প্রায় ৩০০ জন ছাত্র অধ্যয়ন করছে, যাদের ১২০ জন আবাসিক ছাত্রাবাসে অবস্থান করে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই জামিয়ার রয়েছে বেশ কিছু উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: কিতাব বিভাগ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত চালু করা, তাখাস্সুুস ফিল ক্বিরাআত (অনার্স কোর্স), বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা এবং স্বতন্ত্র মহিলা মাদরাসা শাখা চালু করা। কুরআনের বিশুদ্ধ শিক্ষা এবং সমাজের সকল স্তর থেকে কুসংস্কার দূরীকরণে এই জামিয়ার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।
| প্রতিষ্ঠাতা | শায়খুল কুররা মাওলানা আলী আকবর সিদ্দীক রাহ. |
| বর্তমান মুহতামিম | মাওলানা ক্বারী ইমদাদুল হক |
| বর্তমান শিক্ষাসচিব | মাওলানা মোহাম্মদ আলী |
| মোট ছাত্র সংখ্যা | ৩০০ জন |
| আবাসিক ছাত্র | ১২০ জন |
| শিক্ষক সংখ্যা | ~১১ জন (তালিকাভুক্ত) |
| শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর | বর্তমানে কাফিয়া জামাআত পর্যন্ত। |
| বিশেষ পরিচিতি | সহিহ শুদ্ধভাবে পূর্ণ কুরআন শরীফ শিক্ষাদানে বিশেষ গুরুত্ব। |
